৫ রোগীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে জার্মান নার্সের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

৫ রোগীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে জার্মান নার্সের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হোগেল যে হাসপাতালেই কাজ করতেন সেখানেই রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যেত। অন্যদিকে আবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার হারও হয়ে যেত অস্বাভাবিক। তদন্তে দেখা গেছে, ২০০১ সালে নে ওল্ডেনবুর্গ ক্লিনিকে কর্মরত থাকা অবস্থায় সেখানকার কর্মীরা মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ও মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে বৈঠক করেছিল। তবে ওই ব্যাপারে কেউ পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। ফলে বিপদ টের পেয়ে হোগল সহজেই ওল্ডেনবুর্গ ক্লিনিক ছেড়ে ডেলমেনহোর্স্ট ক্লিনিকে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। সেখানেও যথারীতি সে যে শিফ্টে কাজ করতো সেই সময় রোগীদের মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। জার্মান ম্যাগাজিন ‘দের স্পিজেল’র খবর অনুযায়ী,  একদিন হোগেল কক্ষে থাকা অবস্থায় কিছুক্ষণ আগেও স্থিতিশীল এক রোগীর হঠাৎ করেই ‘হার্টবিট’ অনিয়মিত হতে শুরু করলে অন্য একজন নার্সের সন্দেহ হয় এবং তিনি ময়লার ঝুড়িতে ওষুধের খালি বোতল খুঁজে পান; রোগীকে বিষ দিয়ে এভাবেই  ধরা পড়ে হোগেল।

নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এভাবে হোগেল প্রায় একশ রোগীকে হত্যা করেছে বলে আভিযোগ আছে। বৃহস্পতিবার ওল্ডেনবুর্গ জেলা আদালত হোগেলকে ৮৫ রোগী হত্যার অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে আজীবনের জন্য তাকে নার্সিং পেশায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বিচারক সেবাস্টিয়ান বুহর্ম্যান বলেন, “আপনার অপরাধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা অসম্ভব। আপনি যা করেছেন মানুষের পক্ষে সেগুলো কল্পনা করাও কঠিন।”রায় ঘোষণার এক দিন আগে আদালতে নিজের হাতে নিহত রোগীর স্বজনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে ‍মাফ করে দেওয়ার অনুরোধ করে হোগেল।

হোগেলের অপরাধের ব্যাপকতা সম্পর্কে জানতে ২০১৪ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির অনুসন্ধানে ভয়ঙ্কর ফলাফল পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,  ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে হোগেল ওল্ডেনবুর্গ ক্লিনিকে ৩৮ জনকে এবং ডেলমেনহোর্স্টে ৬২ জনের বেশি রোগীকে হত্যা করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হোগেলের হাতে হত্যার শিকার হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ থেকে ৩শ।

বিচারের শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে ধীরে ধীরে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন হোগেল। ২০১৫ সালে হত্যা মামলার শুনানি চলার সময় ৩০ জনের বেশি রোগীকে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয় সে। এরপর তার বিরুদ্ধে আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয় এবং ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে দুই জনকে হত্যা, দুইজনকে হত্যা চেষ্টা এবং রোগীদের ক্ষতি করার অভিযোগে হোগেল দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়।

এবার ৮৫ জনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হলো তাকে। জার্মানিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ বছর সাজা ভোগের পর প্যারলে মুক্তির সুযোগ থাকে। তবে বিচারক জানিয়ে দিয়েছেন, ইতোমধ্যেই অপর এক মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে থাকা হোগেলের ক্ষেত্রে সেই প্যারোলের সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আইনকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ৮৫ জনকে হত্যার জন্য পৃথকভাবে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হলে তার সাজার মেয়াদ হতো ১২৭৫।

নিউজটি শেয়ার করুন

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত|নিউজ বাংলাদেশ24.কম