৬৮ হাজার মানুষের করোনা জয়

0
373

করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। কভিড-১৯ নামে পরিচিত প্রতিষেধকবিহীন এ ভাইরাস চীনের পাশাপাশি বিশ্বের ১১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে এত আতঙ্কের মধ্যেও এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮ হাজার ৩০৪ জন। এই বিষয়টিকে আশার আলো হিসেবে দেখছে বিশ্ববাসী।

বুধবার রাতে করোনাভাইরাসকে মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। ডাব্লিউএইচও’র প্রধান টেড্রস অ্যাধনম গেব্রিয়াসেস জানান, গত দুই সপ্তাহে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা উৎপত্তিস্থল চীনের বাইরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের দেশগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শহরটির গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ৩ হাজার ১৬৯ জনই চীনা নাগরিক। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৭ জন। এরমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ৭৯৬ জনের চীনের। 

এরকম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো উহান পরিদর্শন করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা তা টেস্ট করাচ্ছেন না বলে দাবি সাংবাদিকদের।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, এমন প্রশ্ন ছিল ওয়াশিংটনের সংবাদ কর্মীদের। যদিও সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ট্রাম্প। তবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা তার কর্মকর্তারা এখনো করোনাভাইরাসের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা করেননি।

চীনের পর সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৪৯ জন। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। ইরানে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪২ জন। মারা গেছেন ২৯১ জন।

জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। জার্মানিতে এ ভাইরাসে এক হাজার ৯৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। ফ্রান্সে দুইহাজার ২৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৪৮ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছে ৬৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।

স্পেনে আক্রান্ত ২,২৭৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত এক হাজার ৩২৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৬৫২ জন, এবং মারা গেছে ৪ জন, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৪৫৬জন, মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। ইরাকে আক্রান্ত ৭১, মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। ভারতে আক্রান্ত হয়েছে ৬২ জন।

সুইডেনে আক্রান্ত ৫০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। সিঙ্গাপুরে ১৭৮, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৫০৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। নরওয়েতে আক্রান্ত ৬২৯, বেলজিয়ামে ৩১৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। হংকংয়ে আক্রান্ত ১৩০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ১৪৯, অস্ট্রিয়ায় ২৪৬, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ১৩৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বাহরাইনে আক্রান্ত ১৯৫ জন, কুয়েতে ৭২, কানাডায় ১১৮ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত ৫৯ এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। তাইওয়ানে আক্রান্ত ৪৮ এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের, গ্রিসে আক্রান্ত ৯৯, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৭৪, আইসল্যান্ডে ৮৫, সান মারিনোতে আক্রান্ত ৬৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। ডেনমার্কে আক্রান্ত ৫১৪, লেবাননে আক্রান্ত ৬৮ জন, মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। ইসরায়েলে আক্রান্ত ৯৭, চেক রিপাবলিকে ৩২, আয়ারল্যান্ডে ৩৩, আলজেরিয়াতে ২০ এবং ভিয়েতনামে ৩৯ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ওমানে ১৮, ফিলিস্তিনে ৩০, মিসরে ৬৭, ফিনল্যান্ডে ৬৫, ব্রাজিলে ৫২, ইকুয়েডরে ১৬, পর্তুগালে ৬১, রাশিয়াতে ২৮, ক্রোয়েশিয়ায় ১৯, কাতারে ২৬২, ম্যাকাউতে ১০, এস্তোনিয়ায় ১৬, জর্জিয়ায় ২৪, রোমানিয়ায় ৪৭, আর্জেন্টিনায় ২১, স্লোভেনিয়ায় ৫৭, আজারবাইজানে ১১, বেলারুশে ৯, মেক্সিকোতে ১২, পাকিস্তানে ২০, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ৪৯ এবং মৃত্যু ২, সৌদি আরবে ৪৫, চিলিতে ২৩, পোল্যান্ডে ৩১, স্লোভাকিয়ায় ১০, পেরু ১৭, ইন্দোনেশিয়ায় ৬, নিউজিল্যান্ডে ৫, সেনেগালে ৪ ও হাঙ্গেরিতে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

লুক্সেমবার্গে ৭, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ৭, বসনিয়ায় ৭, ডোমিনিক প্রজাতন্ত্রে ৫, মরক্কোতে ৬, আফগানিস্তান ৭, কম্বোডিয়া ৯, বুলগেরিয়া ৭, ক্যামেরুন ২, মালদ্বীপ ৮, দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩, লাটভিয়ায় ১০, বাংলাদেশে ৩ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া আন্দোরা, আর্মেনিয়া, জর্ডান, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কোস্টারিকা, ভ্যাটিকান সিটি, গিব্রালটার, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টোগোতে একজন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মত এ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।