রিফান্ডের নামে ইভ্যালির প্রতারণা

0
534

ভোগান্তির অপর নাম ইভ্যালির রিফান্ড পদ্ধতি। পণ্য অর্ডার করার পর দুই থেকে তিন মাস পর পণ্য নেই বলে ইভ্যালি থেকে দেয়া হয় রিফান্ডের বার্তা। তবে সেই টাকা ফেরত পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহককে।

ইভ্যালির একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, সবার একই অভিযোগ। পণ্য না দিয়ে রিফান্ড দেয়া হবে বলে জানানো হয় ইভ্যালির পক্ষ থেকে। কিন্তু রিফান্ডকৃত টাকা তাদেরই ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। যা শুধু দেখা যাবে, নেয়া যাবে না। এটি তাদের একটি প্রতারণার প্রধান কৌশল বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
 
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভ্যালির রিফান্ড সম্পর্কে জানান, পণ্য পাওয়ার আগেই ইভ্যালিকে টাকা দিতে হয়। এরপর ১৫ দিন পর পণ্য দেয়া হবে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এমন হাজার হাজার গ্রাহকের টাকা আছে তাদের কাছে। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, দুই থেকে তিন মাস পর ইভ্যালির পক্ষ থেকে বলা হয় পণ্য নেই, অর্ডার ক্যান্সেল করেন। এটা প্রতারণা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
 
অভিযোগ রয়েছে অর্ডার নিয়েও। ইভ্যালিতে সামান্য মনিটর ও মাউস অর্ডার করেও হয়েছেন প্রতারিত। ইভ্যালির একজন গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  অভিযোগ করেছেন, ইভ্যালি থেকে একটি মনিটর ও মাউস অর্ডার করেছিলাম। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রোডাক্ট হাতে পেয়েছি।
 
তবে আমি মনিটর যেটা অর্ডার করেছি সেটা তারা দেয়নি। মনিটরের জন্য পেমেন্ট করছি ১০ হাজার ৬০০ টাকা, আর তারা দিয়েছে অন্য মডেল। যার দাম ইভ্যালিতেই ৯ হাজার ৯০০ টাকা। মাউসের জন্য পেমেন্ট করছি ৯৯০ টাকা। মাউস দিয়েছে ৮৫০ টাকার। এভাবে প্রতারিত করলে মানুষ ই-কমার্সের ওপর আকৃষ্ট হবে না।

ইব্রাহীম খলিল নামের একজন গ্রাহক বলেন, বাজাজ পালসার এনএস ১৬০ মডেলের একটি মোটরসাইকেল গত ১১ ডিসেম্বর অর্ডার করি। এরপর ১৪ ডিসেম্বর পেমেন্ট করেও এখন পর্যন্ত প্রসেসিং দেখাচ্ছে। হতাশায় তিনি বলেন, কবে নাগাদ মোটরসাইকেল হাতে পাবো তার ঠিক নেই। ডেলিভারি পেতে কি করতে হবে সেই সহযোগীতা চেয়েছেন ইভ্যালির কর্মকর্তাদের কাছে।

সম্প্রতি অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, কোনপ্রকার পূর্বশর্ত ছাড়াই ইভ্যালি টাকা আটকে রাখছে ও হেনস্তা করছে। প্রতিষ্ঠানটি রিফান্ডের নামে ছলচাতুরির মাধ্যমে জনগণের টাকা মাসের পর মাস আটকে রেখে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইভ্যালির একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ইভ্যালি মূলত অন্যের টাকায় ব্যবসা করে। প্রথমে গিফট কার্ড বিক্রি করে পণ্য দেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করে থাকলেও দ্বিতীয় দফা থেকে কোন বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হয়নি।
 
ইভ্যালির বিভিন্ন অফার সম্পর্কে তিনি বলেন, আজ যে অফার দিয়ে টাকা নেয়া হচ্ছে সেই পণ্য ১৫ দিন থেকে শুরু করে চার মাস পর দেয়া হবে। আগামী সপ্তাহে যে অফার দিয়ে টাকা তোলা হবে সেটাও একই পদ্ধতিতে চলবে। এভাবে তিন মাস আগে যদি মার্কেট থেকে ১০ কোটি টাকা ওঠে তাহলে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার পরপরই নতুন অফারে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ টাকা উঠছে। ফলে প্রতিনিয়ত টাকা ইভ্যালির কাছে জমা হচ্ছে। এভাবে গ্রাহকের টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে ইভ্যালি।
 
তিনি আরো জানান, ইভ্যালির কোন নিজস্ব পণ্য নেই। সেই কারণে শুধু গ্রাহক থেকে অগ্রিম টাকা নেয়া হচ্ছে না, ভেন্ডর কোম্পানিগুলো থেকেও দীর্ঘ মেয়াদী বাকিতে পণ্য নেয়া হচ্ছে। ফলে ইভ্যালিতে নতুন করে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হচ্ছে না।
 
এ বিষয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে রিফান্ডের নামে এর আগেও অভিযোগ শুনেছি। আমাদের কাছে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব, কোন ছাড় দেয়া হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইভ্যালির এক কর্তকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরে আমাদের প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ১২ লাখের উপরে আর সেলার বা মার্চেন্ট ২০ হাজারেরও বেশি। এতো বড় সংখ্যক গ্রাহকের আস্তা অর্জনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের গ্রাহকের অর্ডার বেশি হওয়াতে পণ্য ডেলিভারি দিতে একটু সময় বেশি লাগছে। প্রতিনিয়ত আমাদের লোকবল বাড়ছে। জনবল কিছুটা কম থাকায় গ্রাহকের টাকা রিফান্ড দিতে একটু সময় লাগছে। যা খুব দ্রুত আমরা কাটিয়ে উঠবো।

তিনি আরো বলেন, হয়‌তো ১০ হাজার অর্ডা‌রে দুই-একটা মি‌সিং হ‌য়ে যায়। সেগু‌লো আমাদের নজ‌রে এলে দ্রুত সমাধান ক‌রে দিচ্ছি। আস‌লে কাজ কর‌লে ভুল হয়, না কর‌লে ভুল হয়না। আসা কর‌ছি ইভ্যা‌লি সকল অ‌ভিযোগই সময়মত সমাধান কর‌ছে এবং কর‌বে।