Home Blog

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা কোথায় দান করা যাবে?

এই পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর, যার টাকা পয়সার প্রয়োজন নেই বা তিনি প্রচুর প্রচুর অর্থের মালিক হতে চান না। আমরা সবাই জানি অর্থ ছাড়া এক মুহূর্ত চলা প্রায় অসম্ভব। অর্থই মানুষের মনোবলের অন্যতম কারক। তাই প্রায় সবাই চান কোনো না কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে।

রাস্তাঘাটে টাকা পয়সা কুড়িয়ে পাওয়ার ঘটনা আমাদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। এই বিষয়টা নিয়ে নানা মানুষ নানা মত প্রকাশ করেন। অনেকে সেই কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মসজিদে দান করে দেন, আবার অনেকে কোনো গরিব দুঃখীকে দান করেন। তবে কুড়িয়ে পাওয়া এসব টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ কি মসজিদে দান করা যাবে? নাকি অন্য কোথাও দান করতে হবে? এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

ইসলাম ধর্ম মতে, যদি টাকার পরিমাণ এতো কম হয় যে মালিক তা অনুসন্ধান করবে না, তবে কোনো ফকিরকে তা সদকা করে দেবে। আর যদি অনেক টাকা বা মূল্যবান কোনো বস্তু পাওয়া যায় এবং মালিক এর খোঁজে থাকবে বলে মনে হয়, তাহলে ওই স্থান ও আশপাশ এবং নিকটবর্তী জনসমাগমের স্থানে (যথা মসজিদের সামনে, বাজারে, স্টেশনে ইত্যাদিতে) প্রাপ্তির ঘোষণা দিতে থাকবে এবং প্রকৃত মালিক পেলে তার কাছে হস্তান্তর করে দেবে।

তবে এর পরও যদি মালিক না পাওয়া যায়, মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে প্রবল ধারণা হয় তাহলে তা কোনো গরিব-মিসকিনকে সদকা করে দেবে। প্রাপক দরিদ্র হলে সে নিজেও তা রেখে দিতে পারবে। আর কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মসজিদে দেওয়া যাবে না। কারণ ইসলামে ব্যাক্তি মসজিদে শুধু মাত্র হালাল টাকা দান করতে পারবে। (সূত্র : ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৮৯; আদ্দুররুল মুখতার: ৪/২৭৮; ফাতহুল কাদির: ২/২০৮; আলমুহিতুল বোরহানি: ৮/১৭১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু কুড়িয়ে নেয় সে যেন তার ওপর দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রাখে, তারপর সে যেন তা গোপন না করে, পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করে, তারপর যদি তার মালিক আসে, তবে সে সেটার অধিকারী, আর যদি না আসে, তবে সেটা আল্লাহর সম্পদ, তিনি যাকে ইচ্ছে তা দান করেন।’ (ইবনে হিব্বান : ৪৮৯৪)

উস্কানিমূলক ভিডিও, নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে ইউটিউব থেকেও নিষিদ্ধ হলেন ট্রাম্প

 গুগল পরিচালিত ইউটিউব তাদের বার্তায় জানিয়েছে, নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেল নূন্যতম সাত দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য এই চ্যানেলের কোনও কনটেন্টে কমেন্ট করার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ফ্রান্স ২৪ইউটিউবের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, আমরা খতিয়ে দেখেছি ট্রাম্পের ইউটিউব অ্যাকাউন্টের একটি বিশেষ ভিডিও প্র্ররোচনামূলক। ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে ও নীতিভঙ্গের কারণে অ্যাকাউন্টটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আপাতত সাতদিন নতুন ভিডিও আপলোড বা লাইভস্ট্রিম করা যাবে না। সাতদিন পর আমরা আবার বিষয়টি পর্যালোচনা করবো।  ট্রাম্পের ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্পের কয়েকটি ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের ভুয়া অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ আপেল আমদানিকারক বাংলাদেশ

 বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আপেল আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান ক্রয় ক্ষমতা এবং মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ আপেল আমদানিতে এই অবস্থান অর্জন করেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর তৃতীয় সর্বোচ্চ আপেল আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ।

এতে বলা হয়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ দুই লাখ ৭১ হাজার টন আপেল আমদানি করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সেটি দুই লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছুতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।

বাংলাদেশের পরে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে মেক্সিকো ও মিশর। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই দুটি দেশের আমদানির হার বিশ্বব্যাপী ৫৯ দশমিক ৪ লাখ টন আপেল আমদানির পাঁচ শতাংশ।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভেজালের ভয়াবহতা হ্রাস পাওয়ায় লোকজন তাজা ফল খেতে আগ্রহী হচ্ছেন। ক্রমবর্ধমান ক্রয় ক্ষমতার পাশাপাশি দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনের অভাবে ফলের জনপ্রিয়তা আমদানি বাড়িয়ে দেবে।

ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কিছু ইউরোপীয় দেশের চেয়ে চীন আমদানিকারকদের জন্য আপেলের সবচেয়ে বড় উৎস।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে আপেল উৎপাদনের চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে উচ্চ তাপমাত্রা ও স্বল্প শীতের কারণে উচ্চমানের আপেল উৎপাদনে এখনো সফল হওয়া যায়নি।

সূত্র: ডেইলি স্টার।

নৃশংসভাবে বলি দেয়া হয় এই কুমারীকে, প্রকৃতিই তাকে করেছে মমি

দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত বিশাল এক পর্বতমালা আন্দিজ। বহু পার্বত্য অঞ্চল একসঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে এই পর্বতমালা গড়ে ওঠার কারণে, এখানে রয়েছে অভাবনীয় সব প্রাকৃতিক বৈচিত্র। আজ জানাবো সেই আন্দিজ পর্বতমালার লেডি অব এমপাটো ৫০০ বছর আগের এক ইনকা সুন্দরী সম্পর্কে- 

১৯৯০ সালের ঘটনা। দক্ষিণ পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার নেভাডো স্যাবাংক্যায়া আগ্নেয়গিরি হঠাৎ জীবন্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত লাভা আর ছাই ছড়িয়ে পড়তে লাগলো আশেপাশের অঞ্চলে। ফলে কাছাকাছি পর্বতচূড়া থেকে জমাট বাঁধা তুষার গলে যেতে থাকে। এদেরই একটির নাম মাউন্ট এমপাটো।

এর প্রায় পাঁচ বছর পরের কথা। ৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ সালে নৃতত্ত্ববিদ জোহান রেইনহার্ড এবং তার সহকর্মী মিগুয়েল জেরাটে পেরুর আরেকিপায় অবস্থিত মাউন্ট এমপাটোর ২০ হাজার ৬৩০ ফুট চুড়ায় উঠেন। তাদের লক্ষ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটাকে স্বচক্ষে অবলোকন করা। 

তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে বরফে ঢাকা পর্বতে চূড়ার দিকে। সেই সময়ে সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ছয় হাজার ফুট উঁচুতে অদ্ভুত কিছু দেখতে পান তারা। বরফের মধ্যে কয়েকটি উজ্জ্বল পাখির পালক। সেই পালক তাদের দৃষ্টিগোচর হলো।

নৃতত্ত্ববিদ রেইনহার্ড থমকে দাঁড়ালেন। কারণ সেগুলো আর পাঁচটি সাধারণ পাখির পালক মতো দেখতে ছিলো না। সেগুলো ছিলো মাথায় পরা মুকুটের অংশ। যা প্রাচীন ইনকাদের আনুষ্ঠানিক উৎসবের সময় মাথায় পরতো। এই মুকুট তৈরি করা হতো বিশেষ এক প্রকার পাখির পালক আর এক ধরনের ঝিনুকের খোলস দিয়ে। 

খুব তাড়াতাড়ি আরো অবশিষ্টাংশ খুঁজে পেলেন তারা। ইনকারা আশেপাশে আরো অনুসন্ধান করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে তারা একটি পাথরের কাঠামোর সামনে উপস্থিত হলেন। প্রফেসর রেইনহার্ড বুঝতে পারলেন, তারা প্রাচীন কোনো ইনকা মন্দির বা অনুষ্ঠান ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছেন।

বহু বছর ধরে যা চাঁপা পড়ে ছিলো তুষার স্তরের নিচে। তা আগ্নেয়গিরির উত্তাপে বরফ গলে উন্মুক্ত হয়েছে তাদের সামনে। অনুমান করতে পারলেন যে প্রফেসর রেইনহার্ড আরো কিছু নমুনা পাওয়া যাবে। তারা আরো খোঁজ করতে থাকেন। খুঁজতে খুঁজতে পাহাড়ের একটি খাঁজে জমাটবদ্ধ কাপড়ের একটি বান্ডিলের সন্ধান পেলেন তারা।

এরপর তারা নেমে গেলেন কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করতে। কাছে যেতেই পর্বতারোহী জেরাটে চিৎকার করে উঠলেন! কারণ ততক্ষণে কাপড়ের বান্ডিলের ভেতরে থাকা একটি মৃতদেহ তার নজরে এসেছে। শীঘ্রই মৃতদেহটিকে উদ্ধার করেন তারা। 

মৃতদেহটি ছিল একটি মেয়ের। মেয়েটির গায়ের পোষাক-পরিচ্ছদ দেখে তাদের ভ্রু কুচকে গেলো। আলপাকার লোম দিয়ে তৈরি বহুমূল্য পোষাকে সজ্জিত মৃতদেহটিকে পর্যবেক্ষণ করতেই প্রফেসর রেইনহার্ড বুঝতে পারলেন। এক ইনকা কিশোরীর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছে সে। তবে কতদিন আগের তা জানা যায়নি।  

মেয়েটি মারা গিয়েছিলো আজ থেকে কমপক্ষে ৫০০ বছর পূর্বে, ১৪৪০-৮০ সালের মধ্যে কোনো এক সময়ে। শুধু ওই একটি মৃতদেহ নয়, সেই সঙ্গে আরো দুটি মৃতদেহ আবিষ্কৃত হলো। তিনটি দেহই অদ্ভুতভাবে সংরক্ষিত হয়ে মমিতে রুপান্তরিত হয়েছে! 

মৃতদেহের সঙ্গেই পাওয়া গেলো নানা রকম জিনিসপত্র। তার মধ্যে একটি হলো মাথায় দেয়ার বিশেষ ধরনের কাপড়ের মুকুট, যাতে রয়েছে পাখির পালকের কারুকার্য। এছাড়া পাওয়া গেলো মাটির তৈজসপত্র আর অনেক মূর্তি। 

কিসের তৈরি সেগুলো জানেন কি? নিখাদ সোনার! আছে রুপা আর কাপড়ের তৈরি মূর্তিও। তারা বুঝতে পারলেন, এভাবে উন্মুক্ত আবহাওয়ায় ফেলে রাখলে মৃতদেহগুলো সূর্যালোক এবং আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। 

আশেপাশে থাকা মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া নৃতাত্ত্বিক হিসেবে এমন আকর্ষণীয় ব্যাপার আর হতে পারে না! তাই প্রত্নবস্তু সমেত মৃতদেহগুলোকে তারা পর্বতশিখর থেকে নামিয়ে নিয়ে এলেন। সেগুলোকে তারা পেরুর এরেকুইপাতে অবস্থিত দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব সান্তা মারিয়াতে শীতল রুমে রেখে দিলেন। 

প্রথম মৃতদেহকে নাম দেয়া হয় দ্য ইনকা লেডি। মাউন্ট এমপাটোতে পাওয়া যায় বলে একে দ্য লেডি অব এমপাটো কিংবা স্প্যানিশে মমি হুয়ানিতাও বলা হয়। ১৯৯৬ সালে মমিগুলোকে আমেরিকায় আনা হয়। সেখানে ইনকা লেডির উপর বিস্তারিত গবেষণা চালানো হয়। 

বিভিন্ন ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলো। অটোপসি বা ময়নাতদন্তের ফলে যাতে মমিটি ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। তাই কম্পিউটেড টমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে গবেষকেরা জানার চেষ্টা করেন। কী রহস্য লুকিয়ে আছে এই ইনকা লেডির মধ্যে?

ভাবছেন, কি জানা গেলো এই গবেষণায়? কে ছিলো এই ইনকা লেডি? কেনই বা এমন মৃত্যু হয়েছিলো তার? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ঘুরে আসতে হবে ইনকা সমাজ থেকে। ইনকা দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হয়েছিলো তাদের। 

এদের মধ্যে প্রথমে আবিষ্কৃত মেয়েটি বা ইনকা লেডির বয়স ছিলো ১২ থেকে ১৪। বাকি দু’জনের একজন ছিল ছেলে, আরেকজন মেয়ে। এদের বয়স ছিলো আনুমানিক পাঁচ আর ছয়। তবে ১৩ বছর বয়সী বালিকার দেহ অনেক অভিজাতভাবে সাজানো। অন্যদিকে বাকি দু’জন ছিলো তার তুলনায় বেশ সাদামাটা। 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা সে ছিলো ‘স্যাক্রেড লেডি’ কিংবা ‘পবিত্র নারী’। আর বাকি দু’জন ছিলো তার সেবক কিংবা সহচর। তবে কে এই স্যাক্রেড লেডি? কেনই বা তাদের উৎসর্গ করা হয়েছিল? কি ছিল তাদের অভিপ্রায়? এর উত্তর জানতে হলে আরেকটু গভীরে যেতে হবে।

দক্ষিণ আমেরিকা যখন ইনকা সম্রাজ্য শাসন করত, তখনকার সময়ের কথা! অদ্ভুত ছিলো তাদের রীতিনীতি আর আচার আচরণ। এর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত ছিলো কাপাকোচা উৎসব। কাপাকোচা উৎসব অন্য আর পাঁচটা উৎসব থেকে ভিন্ন। এই উৎসবের জন্য চাই জীবন্ত মানুষ। তাদের যোগাড় করার ব্যবস্থাও ছিলো সারা সম্রাজ্যে বিস্তৃত।

ধারণা করা যায়, তখন ইনকা সম্রাজ্যের কোনো এক অঞ্চলে একটি পাহাড়ের উপত্যকায় থাকত মেয়েটি। মেয়েটির বাবা একজন কৃষক। জমিতে আলু আর নানা রকম ফসল ফলায়। সেগুলোই তাদের খাদ্য। মেয়েটিও মাঝে মাঝে বাবার কাছে ছুটে যেত মাঠে। কতই বা হবে বয়স? বড় জোর ১০ থেকে ১১। 

নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য তখনও প্রকাশ পেতে শুরু করেনি তার দেহে। তবু একটি লাবণ্য ভর করেছে সারা অঙ্গে। এমন সময়ে গ্রামের পুরোহিতের চোখে পড়লো মেয়েটি। গোপনে সেই খবর পাঠালো রাজপুরোহিতকে। প্রভু, দেবতার অর্ঘ্য পাওয়া গেছে।

কয়েকদিন পরে হঠাৎ এক রাত্রে রাজার সৈন্য নিয়ে রাজপুরোহিত এসে হাজির হলো মেয়েটির বাড়ির সামনে। গম্ভীর মুখে জানালো, তাদের মেয়েকে দেবতার সেবায় উৎসর্গ করা হবে। মেয়েটিকে নিতে এসেছি। সেদিনই মেয়েটিকে শেষবার দেখেছিলো তার মা। আর কোনোদিন তার দর্শন পায়নি তার পরিবার।

ঠিক এভাবেই দেবতার চরণে বলি দেয়ার জন্য বেছে নেয়া হতো একজন কিশোর কিংবা কিশোরী। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বালিকাদের বেছে নেয়া হত। মেয়ে হলে তার কুমারী হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। প্রথমেই তাদেরকে মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হত। 

তারপর তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হত। যে পরিবার থেকে কাউকে বেছে নেয়া হত, সেই পরিবারকে অনেক সম্মানের চোখে দেখা হত। আর মেয়েটি রীতিমতো দেবীর মর্যাদা পেত। তবে তা খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। কারণ খুব তাড়াতাড়ি তাকে দেবতার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হত। অর্থাৎ দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হত।

এই গোটা উৎসবটাই কাপাকোচা। এখানে দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হতো কিশোর বাচ্চা কিংবা কুমারী নারীকে। শুধুমাত্র বড় বড় ঘটনা উদযাপন করতেই কাপাকোচা উৎসব পালন করা হতো। এর মধ্যে ছিলো সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণ, যুদ্ধ জয় কিংবা নতুন রাজপুত্রের জন্মদান। 

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচার জন্যও তারা কাপাকোচা উৎসবের আয়োজন করত। বাছাইকৃত কিশোর বা কিশোরীকে শারীরিকভাবে খুবই নিখুঁত হতে হবে। এমনকি গায়ে কোনো তিল কিংবা আঁচড়ের দাগ থাকতে পারত না।

যতক্ষণ না চূড়ান্ত সময় আসত ততক্ষণ তার সঙ্গে রাজকীয় ব্যবহার করা হত। তাকে প্রথমেই একজন পুরোহিতের তত্ত্বাবধানে রাখা হত। সবথেকে দামি পোষাক নির্ধারিত থাকত তার জন্য। তার চুলগুলো সুগন্ধী পানিতে ধুয়ে সুন্দর করে বিনুনি করে দেয়া হত। স্বয়ং রাজা যে খাবার খেত, সেই খাবারই তাকে খাওয়ানো হত।নৃশংসভাবে বুিল দেয়া হয় তাকে

নৃশংসভাবে বুিল দেয়া হয় তাকেতারপর চূড়ান্ত উৎসবের মাস কয়েক আগে থেকে তাকে প্রচুর অ্যালকোহল আর নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হত। এদের মধ্যে ছিলো কোকো পাতা, যা থেকে তৈরি হয় কোকেইন। আমাদের শরীরে থেকে বিষাক্ত পদার্থ প্রধানত বের হয়ে যায় মলমূত্রের মাধ্যমে।

সেই সঙ্গে কিছু পরিমাণ নিঃসৃত হয় ঘামের মাধ্যমে। চুল এবং নখেও জমা হয় কিছু পরিমাণ। উদাহরণস্বরুপ বলতে গেলে, ধীরে ধীরে আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষের চুল বিশ্লেষণ করে তাতে আর্সেনিক পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা মমি তিনটির দেহ থেকে প্রাপ্ত চুল বিশ্লেষণ করেন। তাতে দেখা যায়, মৃত্যুর প্রায় ২১ মাস আগে থেকে ইনকা লেডির খাদ্যে কোকেনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ৬ মাস আগে সে সবচেয়ে বেশি কোকা খাবার হিসেবে গ্রহণ করেছে। 

অন্যদিকে মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে অ্যালকোহলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিলো। কোকেইন ক্ষুধা কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে, রক্তনালিকে সংকুচিত করে। ফলে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। প্রশ্বাসের বেগ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হ্যালুসিনেশন গ্রাস করে নেয় ওই ব্যক্তিকে। ফলে স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি লোপ পেত তার। নিজের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ছিল না তার।  

ধীরে ধীরে সময় যত ঘনিয়ে আসত। ওদিকে মদ এবং নেশা বস্তুর পরিমাণও আরও বাড়ত। ফলে সারাক্ষণ নেশাগ্রস্থ হয়ে থাকত তারা। উৎসবের দিন সবাই মিলে নাচ, গান, হৈ-হুল্লোড় করতে করতে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হত বহু দূরের এক পবিত্র পাহাড় চূড়ায়।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর সমস্ত দিন নানা পর্ব পালন করে দিনের শেষে ফিরে আসত তারা। তবে মেয়েটিকে রেখে আসত পাহাড় চূড়ায় একটি ছোট কুঠিরে। তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করার জন্য মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতও করত। দ্য মেইডেন লেডি অব ইনকা কিংবা ইনকা কুমারী ছিলো এমনই এক হতভাগা! 

প্রকৃতির এক বিচিত্র খেয়ালে তার দেহ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে চাপা পড়ে গিয়েছিলো বরফের তলায়। কিংবা কে জানে? হয়তো জীবন্ত সমাধিই হয়েছিলো তার। তবে ১৯৯৯ সালে আবার ইনকা কুমারী আমাদের মাঝে ফিরে এলো। ততদিনে ৫০০ বছর কেটে গেছে পৃথিবীতে। যে সম্রাট নিজ সমৃদ্ধির আশায় নিষ্ঠুর দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দিয়েছিলো একটি নিষ্পাপ প্রাণ, তিনিও হারিয়ে গেছে মহাকালের গর্ভে।

নতুন ইতিহাস, টম ক্রুজের শুটিং শুরু হচ্ছে মহাকাশে

টম ক্রুজ মানেই ‘মিশন ইম্পসিবল’! নিজেই বিপজ্জনক সব স্টান্ট করেন। এবার এক ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করার পথে টম ক্রুজ। আর তা হলো, ২০২১ সালের অক্টোবরে মহাকাশে শুটিং শুরু করবেন টম ক্রুজ। যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের নতুন ইতিহাস হিসেবে গণ্য হবে।

চলতি বছরের মে মাসে টম তার পরবর্তী সিনেমার জন্য স্পেস এক্সের সহায়তায় মহাকাশে শুটিংয়ের ব্যাপারে মহাকাশ ভিত্তিক বিজ্ঞানিক সংস্থার নাসার সহযেগিতা চেয়েছিলেন। এ নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেছিলেন। তবে নাসা তাকে সহযোগিতার বাড়িয়ে অবাক করছেন সবাইকে। খবর নিউ মিউজিকাল এক্সপ্রেস

জানা গেছে, প্রকল্পটি দৃশ্যমান করার জন্য কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। স্পেস শাটল আলমানা টুইটারে নিশ্চিত করেছেন যে কমান্ডার মাইকেল লোপেজ দ্বারা চালিত অ্যাক্সিয়াম স্পেস ২০২১ সালের অক্টোবরে ক্রুজ এবং লিমেনকে নিয়ে যাত্রা করবে একটি পর্যটন মিশনে। সেখানে চলবে সিনেমার শুটিংয়ের কাজ।

নাসায় অফিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে কাজ করা জিম ব্রিডেনস্টাইন এক বিবৃতিতে জানান, স্পেস স্টেশনের এই ছবিতে টম ক্রুজের সঙ্গে কাজ করতে পেরে নাসা দারুণ খুশি! আমাদের নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীদের এই ধরনের উচ্চ বিলাসী উদ্যোগকে সত্যে রূপান্তরিত করার জন্য মজবুত মিডিয়াগুলো এবং সুপারস্টারদের এগিয়ে আসা সত্যিই প্রশংসনীয়।

হলিউড তারকার এক মুখপাত্র জানাচ্ছেন, গোটা বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোন স্টুডিও এই প্রকল্পে কাজ করবে এখনো ঠিক হয়নি। তবে টম এই ছবির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।

প্রায় ২০০ মিলিয়ন বাজেটের এই সিনেমাটির গল্পের অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন মিশন ইম্পসিবল ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার ম্যাককিয়ারি ক্রুজ। আরো আছেন ডগ লিমেন এবং পিজে ভ্যান স্যান্ডউইজক।

ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম মাসে বিয়ে

ইসলামের ইতিহাসে এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস। অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয় এ মাসে। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এই মহররম মাসে।

নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় এ মাসের ফজিলত। মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস।

মহররম সম্পর্কে (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারটি। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সূরা : তওবা, আয়াত : ৩৬)।

অর্থাৎ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহ তায়ালা ১২টি মাস নির্ধারণ করে দেন। তন্মধ্যে চারটি মাস বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে।

ওই চারটি মাস কী কী? এর বিস্তারিত বর্ণনা হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, এক বছরে ১২ মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস। (সহিহ বুখারি : ৪৬৬২ ও মুসলিম : ১৬৭৯)।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের উপরোক্ত ঘোষণায় আমরা জানতে পারছি যে, মহররম সম্মানিত ও মর্যাদার মাস। অথচ এ মাসের বিয়ে-শাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাওয়াব ও ইবাদতের আমল ঠিক নয়, এমনটি মনে করেন অনেকে। বাস্তবেই কি এ ধারণা বা বিশ্বাস সঠিক?

মহররম মাসে কি বিয়ে-শাদি করা যাবে না? এ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনাই বা কী?

ইসলামের ইতিহাসে নানান কারণে মহররম মাস সর্বাধিক পরিচিত। এ মাসটি আল্লাহর গণনায় ১২ মাসের মধ্যে যে ৪টি মাসকে মর্যাদা ও সম্মানিত করেছেন, তার মধ্যে একটি মাস হলো মহররম। এ মর্যাদার মাসে মুমিন মুসলমান নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা তা অশুভ বা কুলক্ষণে মর্মে সমাজে প্রচলিত ধারণা সঠিক নয়। বরং এ ধারণা পোষণ করা একটি ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার।

মহররম মাসে বিয়ে করা যাবে না- এ রকম কোনো কথা বা প্রমাণ কোরআন এবং হাদিসে নেই। মর্যাদার মাস মুহররম নিয়ে এসব ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করা ইসলামি শরীয়তে নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসের পরিভাষায়, ‘কোনো বিষয়কে কুলক্ষণে মনে করাকে শিরক বলা হয়েছে।’ (আবু দাউদ)।

অন্য যেকোনো দিন ও মাসে মুমিন মুসলমান যেসব ভালো কাজগুলো করে থাকেন, সেসব ভালো কাজগুলো মহররমসহ সম্মানিত ৪ মাসে বেশি বেশি করা উচিত। বিয়ে-শাদি যেহেতু একটি ভালো ও কল্যাণকর কাজ। তাই এ মাসে বিয়ে-শাদিও করা যাবে। এতে কোনো দোষ, অশুভ ও কুলক্ষণে নেই।

যে ভুল বিশ্বাসে সমাজে এ কুসংস্কার প্রচলিত:

মহররম মাসে বিয়ে করা যাবে না মর্মে যে ভুল বিশ্বাস সমাজে বেশ প্রচলিত আছে, তা হলো- মহররম মাস একটি অপয়া মাস ও কুলক্ষণে মাস। বিয়ে শাদির জন্য এটি খারাপ সময়। এটা শোকের সময় বা মাস। তাই এ মাসে বিয়ে শাদি করা ঠিক নয়। এ ধারণাটিই মূলত কুসংস্কার ও ভুল।

মহররম মাসে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে স্থায়ী এক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাণ প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্মমভাবে শাহাদাত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে শোক পালন করে থাকেন। আর এ কারণেই অনেকে শোকের মাস হিসেবে এ মাসে বিয়ে-শাদি করাকে কুলক্ষণে ও অশুভ মনে করেন।

হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর জন্য অবশ্যই অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা। কিন্তু এ কারণে এ মাসের কোনো ভালো কাজকে অশুভ বা কুলক্ষণে ও অপয়া বলা একবারেই ঠিক নয়। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে সময় (দিন, মাস) অশুভ ও অপয়া হয় না। কোনোভাবেই মন্দ হতে পারে না।

অন্যদিকে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা এ মাসে পয়গাম্বর হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিজয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজে রোজা রেখেছেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?

তারা (ইয়াহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তায়ালা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)- এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই (হজরত) মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই (হজরত) মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর (আদর্শ পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখতে বললেন।’ (বুখারি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)।

সুতরাং মহররম মাসকে অশুভ, কুলক্ষণে ও অপয়া বলা একটি ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার। মুমিন মুসলমানকে এ ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিশ্বাস ত্যাগ করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব।

মনে রাখতে হবে-

পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে থাকে। কোনো দিন, রাত, সপ্তাহ বা মাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন- শাওয়াল মাস: জাহেলি যুগে শাওয়াল মাসে বিয়ে শাদি করাকে অশুভ মনে করা হতো। কিন্তু এ মাসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বিয়ে করেছেন।

হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জাহেলি যুগের শাওয়াল মাসের এ কুধারণা তথা কুসংস্কারকে এভাবে খণ্ডন করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিয়ে করেছেন এবং এ মাসেই তিনি বাসর রাত উদযাপন করেছেন। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? (মুসলিম)।

এ হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, কোনো দিন, সপ্তাহ কিংবা মাসে কল্যাণকর কোনো কাজ করাকে অশুভ মনে করা ঠিক নয়। বরং কোনো দিন, সপ্তাহ ও মাসকে অশুভ, অপয়া ও কুলক্ষণে মনে করা ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার। এ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয়।

সুতরাং মহররম মাসের বিয়ে শাদি করায় কোনো নিষেধ নেই। আর তা অশুভ, অপয়া বা কুলক্ষণেও নয়। শুধু মহররম নয় বরং বছরজুড়ে যেকোনো দিন বিয়ে-শাদি করা যাবে। কোনো দিনই অশুভ ও কুলক্ষণে নয়। এটি হোক মুমিন মুসলমানের সঠিক আকিদ্বা-বিশ্বাস।

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মর্যাদার মাস মহররমকে যথাযথ সম্মান ও ইজ্জতের সঙ্গে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। এ মাসের ৯-১০ কিংবা ১০-১১ এ দুই দিন রোজা পালন করে সুন্নাতের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। এ মাস নিয়ে যাবতীয় ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

করোনা সংকটেও আবাসন খাতে আশার আলো

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বের মতো দেশেও ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আবাসন খাত সেই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। কারণ এক্ষেত্রে সাহস জোগাচ্ছে সরকারের নানা উদ্যোগ।

এরমধ্যে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুয়োগ দেয়ায় নতুন আশার আলো দেখছেন এ খাতে সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বাজেটে কর্পোরেট কর হার আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এর একটা বাড়তি সুবিধা পাবে আবাসন খাত। এর বাইরে কাঁচামালের ওপর এক শতাংশ অগ্রিম কর কমানো হয়েছে। এর ফলে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য কমারও সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আবাসন খাতের উৎপাদন খরচও কমে আসবে। 

এদিকে আবাসন খাতকে চাঙ্গা করতে আবার বাসা-বাড়িতে গ্যস সংযোগ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এ বছরের মধ্যেই এ গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাস হয়। এতে আবাসন খাত চাঙ্গা হবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

আবাসন খাতের নেতারা বলছেন, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় এবার প্রচুর পরিমাণে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হবে। এর ফলে কারোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত এই খাতটি আবারো চাঙা হবে।

এ প্রসঙ্গে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ বিনাশর্তে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেয়ার কারণে আশা করি, করোনার মধ্যেই আবাসন খাত চাঙা হবে। শুধু এই খাত নয়, পুরো অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, বিনাশর্তে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় প্রচুর অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আবাসন খাত চাঙা হওয়ার সঙ্গে জড়িত রড, সিমেন্ট, ইট, বালুসহ ২১১টি নির্মাণ উপখাতের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, করোনা কবে যাবে কেউ বলতে পারছে না। কিন্তু মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আবাসন খাতে এর সুফল মিলবে।

 তিনি বলেন, করোনার মাঝেও আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আর এর সুফল পুরো অর্থনীতিতে আসবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। প্রায় একযুগ পর সুযোগটি এসেছে।

প্রসঙ্গত, এতদিন শুধু ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই সুযোগ ছিল। এখন নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে জমি কেনাতেও এই সুযোগ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। এমনকি অপ্রদর্শিত অর্থে আগের কেনা সম্পদের বিপরীতেও নির্ধারিত হারে কর দিয়ে যেকোনও পরিমাণ টাকা সাদা করা যাবে। এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করবে না আয়কর বিভাগ। শুধু আয়কর বিভাগ নয়, প্রশ্ন করবে না দুদকও।

এছাড়া বাজেটে কর্পোরেট কর হার আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। এর একটা বাড়তি সুবিধা পাবে আবাসন খাত। এর বাইরে কাঁচামালের ওপর এক শতাংশ অগ্রিম কর কমানো হয়েছে। এর ফলে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য কমারও সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আবাসন খাতের উৎপাদন খরচও কমে আসবে। পাশাপাশি করোনার কারণে মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতি কিছুটা চাঙা হবে। একইসঙ্গে খাতটির সঙ্গে জড়িত ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীর একটা অংশের বেকার হওয়ার আশঙ্কা কাটবে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাও দূর হবে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে প্রায় সব ফ্ল্যাট প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন ফ্ল্যাটের বুকিং নেই। ক্রেতারা বুকিং দেয়া ফ্ল্যাটের কিস্তি দিচ্ছেন না। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছেন। এর ফলে ঢাকার বাইরে যেকোনও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জমি কিনলে প্রতি বর্গমিটারে ৫ হাজার টাকা কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। আর রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় জমি কিনলে প্রতি বর্গমিটারে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানমন্ডি, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাওরান বাজার, বিজয়নগর, নিকুঞ্জ, ওয়ারী ও সেগুনবাগিচা এবং চট্টগ্রামে খুলশী, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদে জমি কিনলে প্রতি বর্গমিটারে কর দিতে হবে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা।

অন্যদিকে, ফ্ল্যাট কিনে কালো টাকা সাদা করতে চাইলে ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতি বর্গমিটারে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানমন্ডি, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের হাউজিং সোসাইটি (ডিওএইচএস), মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাওরান বাজার, বিজয়নগর, নিকুঞ্জ, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা ও চট্টগ্রামের খুলশী, আগ্রাবাদ, নাসিরাবাদে প্রতি বর্গমিটারে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। এসব এলাকার বাইরে যেকোনও সিটি কর্পোরেশনে প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে।

করোনা সঙ্কটেও শক্তিশালী অর্থনীতিতে ৯ম বাংলাদেশ

বিভিন্ন দেশ লকডাউন জারি করে করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লকডাউন জারি এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। চাকরি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ।

করোনায় সারাবিশ্বেই আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

কোভিড-১৯ সঙ্কটের মধ্যে উদীয়মান অর্থনীতির ৬৬টি দেশ নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। ওই তালিকায় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

চারটি সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো : জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারি ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, ঋণের সুদ এবং রিজার্ভ। ওই তালিকা অনুযায়ী, সবগুলো সূচক বিবেচনায় বাংলাদেশ শক্তিশালী বা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

কোভিড-১৯ সঙ্কটের মধ্যেও শক্তিশালী অর্থনীতিতে থাকা ১০ দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বতসোয়ানা। তালিকায় এরপরেই রয়েছে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, পেরু, রাশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, বাংলাদেশ ও চীন। এই তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের অবস্থান ১৮, পাকিস্তান ৪৩ এবং শ্রীলঙ্কা ৬১।

মহামারির কারণে সৃষ্ট এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়েও অর্থনীতিতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী তিন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান অনেকটাই ভালো।

এই তালিকায় সবার শেষে থাকা বা বর্তমানে অর্থনীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১০ দেশ হলো: ভেনেজুয়েলা, লেবানন, জাম্বিয়া, বাহরাইন, অ্যাঙ্গোলা, শ্রীলঙ্কা, তিউনিশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ওমান এবং আর্জেন্টিনা।

ইউরোপ-আমেরিকায় প্রথম রোজা ২৪ এপ্রিল

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মুসলমানরাসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ইসলামিক দেশগুলো ২৪ এপ্রিল শুক্রবার প্রথম রোজা পালনের মাধ্যমে পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানাবে।

অ্যাস্ট্রোনমিকাল ক্যালক্যুলেশন বা জ্যোর্তিবিজ্ঞানের গণনা অনুসারে এ তথ্য জানা গেছে।

১৪৪১ হিজরির রমজান মাসের প্রথম দিন হবে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার। এ দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার রাতেই শুরু হবে তারাবিহ নামাজ। ফতোয়া কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা (এফসিএনএ) এক বিবৃতিতে অ্যাবাউটইসলামডটকমকে জানিয়েছে। রমজানের চাঁদ ২৩ এপ্রিল জন্ম নেবে বলেও জানিয়েছে তারা।

ফতোয়া কাউন্সিল আরো জানায় যে, ২৩ এপ্রিল শুরু সার্বজনিন সময় ২ টা ২৭ মিনিটে নতুন চাঁদ দেখা যাবে। এদিন সূর্যাস্তের সময় উত্তম ও দক্ষিণ আমেরিকার যেকোনো স্থানে সূর্যের ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি উপরে চাঁদ অবস্থান করবে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফতোয়া অ্যান্ড রিসার্চ (ইসিএফআর) চাঁদের উৎপত্তিস্থল, সময়ের ব্যাপারে নর্থ আমেরিকার ফতোয়া কাউন্সিলের দেয়া তথ্য সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এদিকে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ ইসলামিক দেশগুলোও ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রমজান শুরু হবে বলে জানিয়েছে। দেশগুলোর অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনার তথ্য মতে, ‘ইসলামিক দেশগুলো ইন্টারনেটে অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার ঘোষণা করেছে যে, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার রমজান মাস শুরু হবে।

বিবৃতিতে তারা আরো জানিয়েছে যে, অধিকাংশ ইসলামিক দেশে গত ২৬শে মার্চ শাবান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছিল। ফলে এ দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাবে।

ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ভারত, পাকিস্তান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়াসহ আফ্রিকার অধিকাংশ অ-আরব ইসলামি দেশগুলো রয়েছে এ তালিকায়।

এছাড়াও তুরস্ক, ইরাক, মিশর এবং তিউনিসিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে শাবান মাস শুরু হয়েছিল ২৬ মার্চ। ফলে এসব দেশে ২২ এপ্রিল বুধবারই রমজানের চাঁদ দেখা যাবে বলে জানা যায়।

সর্বোপরি কথা হলো, রমজানের রোজা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের রোজা শুরু হবে। বাংলাদেশে ২৪ এপ্রিল মোতাবেক ২৯ শাবান যদি চাঁদ দেখা যায় তবে ২৫ এপ্রিল শনিবার হবে প্রথম রোজা।

২৪ তারিখ চাঁদ না দেখা গেলে ২৫ এপ্রিল শনিবার শাবান মাস পূর্ণ হবে। আর রোজা শুরু হবে ২৬ এপ্রিল রোববার। বাংলাদেশে রোজা কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত হতে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কোনো পাপ করে ফেলেছেন, সমাধান যে পথে..

মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। আরবিতে প্রবাদ আছে, ‘প্রথম মানুষ প্রথম ভুল’। অর্থাৎ মানব জাতির আদি পিতা আদম ও মা হাওয়া (আ.) দ্বারাই প্রথম ভুল হয়ে ছিলো।

যদিও ওই ভুল আর আমাদের ভুলের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আমাদের মাঝে অনেকে ভুল পথে পরিচালিত হয়। জেনে, না জেনে পাপ ও অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয়। বড়দের দায়িত্ব সেগুললো সংশোধন করা। 

কিন্তু ভুলের সংশোধন কীভাবে করতে হয় না জানার কারণে, সংশোধন করতে গিয়ে বড়রাও ভুল করে ফেলেন। ভুলকারীকে এত বেশি ভয় দেখানো হয় যে, ভুলকারী সংশোধনের আশাই ছেড়ে দেন। হতাশ হয়ে ভাবতে থাকেন, ফিরে আসলেই বা কী হবে। তখন সে ওই পথে আরো বেশি উদ্দমতার সঙ্গে ধাবিত হয়। এভাবেই একদিন সে নিজকে শেষ করে দেয়। অথচ রাসূলের (সা.) আদর্শ ছিলো মানুষকে সুসংবাদ দিয়ে ভালোর পথে নিয়ে আসা। ভীতি প্রদশর্ন করে দূরে ঠেলে দেয়া নয়।

হজরত মুআজ ও আবু মূসা আশআরী (রা.)-কে ইয়ামানে গভর্ণর হিসেবে প্রেরণ করা হয়। ইয়ামানের মানুষ ছিলো নও মুসলিম। তাই নবী করিম (সা.) তারা দু’জনকে বলে দিলেন, সেখানে গিয়ে মানুষের সহজের চিন্তা করবে, কঠোরতা করবে না। সুসংবাদ শুনাবে কখনো দূরে ঠেলে দিবে না।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৯৭৪২)।

ভুলের সংশোধন সহজভাবে করার দৃষ্টান্ত আল কোরআনের বহু জায়গায় পাওয়া যায়। অন্যায় করতে করতে যাদের দিল কালো হয়ে গিয়েছে, আল্লাহ তায়ালা কত সুন্দর ভাষায় তাদেরকে ফিরে আসতে বলেছেন! আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে নবী আমার পক্ষ থেকে বলে দিন, ‘হে আমার ওই সব বান্দা! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় তিনি সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনিই তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা: যুমার: ৫৩)।

বান্দার প্রতি আল্লাহর মহব্বত কত বেশি তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আয়াতে অন্যায়কারীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু অন্যায়কারী বলে সম্বোধন করেননি। নিজের বান্দা বলেই সম্বোধন করেছেন। দুনিয়াতে সন্তানের সবচেয়ে কাছের মানুষ পিতা-মাতা। সন্তানের অন্যায় মাত্রাতিরিক্ত হলে অনেক সময় পিতা-মাতাও সন্তানের পরিচয় অস্বীকার করে। কিন্তু ‘নিজের বান্দা’ এই পরিচয় আল্লাহ তায়ালা অস্বীকার করেননি। শত ভুলের পরও বান্দা বলে ডেকেছেন। এবং ফিরে এলে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সূরা ফুরকানের ৬৮ নম্বর আয়াত নাজিল হলো। সেখানে তাওহীদের বিশ্বাসী, হত্যা ও ব্যভিচার থেকে বিরত ব্যক্তির জন্য পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। আর যারা এগুলোর বিপরীত করে তাদের জন্য রয়েছে আজাবের হুমকি। মক্কার মুশরিক সম্প্রদায় আয়াত শুনে বলা শুরু করলো ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করলেই বা কি হবে? আমরা তো মানুষ হত্যা করেছি। ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। আল্লাহ আমাদের এতগুলো অন্যায় ক্ষমা করবেন? তারা বিষয়টি কঠিন মনে করল।

আল্লাহ তায়ালা তাদের অতিতের ভুলের সংশোধন খুব সহজভাবে করে দিলেন। বলে দিলেন, যারা অতিতে ওই সব অন্যায়ে লিপ্ত হয়ে ভুল করেছে তাদের দু’টি কাজ করলেই হবে। শুধু গোনাহ মাপ হবে তাই নয়। বরং আল্লাহ তায়ালা অতিতের গোনাহকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। প্রথম কাজ হচ্ছে, তওবা করে ফিরে আসতে হবে। দ্বিতীয় কাজ হলো নেকির কাজ বেশি বেশি করতে হবে (সহিহ মুসলিম: ৩০২৩)।

মক্কার লোকের ইহরাম বাঁধার পর কোনো কাজের জন্য বাড়িতে এলে দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতো না। এটাকে তারা অন্যায় মনে করতো। এ জন্য তারা ছাদ দিয়ে ঘরে অবতরণ করতো। অথবা পেছনের দিক দিয়ে ফাঁক করে ঘরে প্রবেশ করতো। এটা ছিলো ভ্রান্ত কুসংস্কার। আল্লাহ তায়ালা কত সহজভাবে তাদের সংশোধন করে দিলেন। কোরআনের ভাষায় ‘এ কোনো পুণ্য নয় যে তোমরা ঘরের পেছন দিক থেকে ঘরে আসবে। পুণ্য তো হলো আল্লাহর ভয়। অতএব, তোমরা ঘরে আস, তার দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৯)। উল্লিখিত আয়াত দ্বারা এ কথাও প্রতীয়মাণ হয়, সংশোধনকারীর দায়িত্ব শুধু ভুল ও ব্যর্থতার দিকগুলো ধরিয়ে দেয়া নয় বরং সফল হওয়ার পদ্ধতি বাতলে দেয়াও কর্তব্য।
 
নবী করিম (সা.) মানুষের ভুলকে সজহভাবে নিতে শিখিয়েছেন। সমাধানও তিনি দিয়েছেন সহজভাবে। তাঁর ভাষ্য হলো ‘প্রত্যেক আদম সন্তান ভুলকারী। ভুলকারীদের মাঝে উত্তম হলো যারা তওবা করে নিজেকে শুধরে নেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ-৪২৫১)। তাছাড়া নবী করিম (সা.) এর সীরাতে বহু ঘটনা এমন ঘটেছে, যা দেখে মনে হতো এর সমাধান সহজভাবে হবে না। কিন্তু রাসূল (সা.) বিষয়টিকে এত সহজভাবে নিতেন যা কখনো কল্পনায়ও আসতো না। সামনে এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো।

এক লোক নবী করিম (সা.) এর নিকট এসে আক্ষেপ প্রকাশ করল যে, সে অনেক বড় অন্যায় করেছে। এখন সে ওই অন্যায়ের কুফল থেকে রেহাই চায়। তাই সে রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার তওবা কবুল হবে? আল্লাহ তায়ালা আমাকে মাফ করবেন? রাসূল (সা.) তার কাছে জানতে চায়, তোমার মা জীবিত আছেন? সে উত্তর দেয়, না। রাসূল (সা.) আবার জানতে চান, তোমার খালা জীবিত আছেন? সে বলে, হ্যাঁ। তখন রাসূল (সা.) বলেন, তুমি গিয়ে তোমার খালার সেবা করবে। এর দ্বারাই তোমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ হাদিসটি হজরত ইবনে ওমর (রা.) এর সূত্রে, ইমাম তিরমিজি (রাহ.) স্বীয় গ্রন্থ ‘সুনানে তিরমিজিতে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নম্বর: ১৯০৪)।

মানুষের বড় ভুলের সংশোধন সহজভাবে করার অনন্য দৃষ্টান্ত এই হাদিস । আমরা এখন সহজ পদ্ধতি থেকে সরে কঠিন থেকে কঠিনতম পদ্ধতিতে সংশোধনের চেষ্টা করি। এতে মানুষের মানসিকতা অনেক সময় বিগড়ে যায়। সে বিপথগামী হয়ে সংশোধনকারীর ওপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। তাই কঠোরতা করলে সংশোধন সহজ হবে এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

হজরত আয়শা (রা.) রাসূল (সা.) এর সবচেয়ে কাছের মানুষ। রাসূল (সা.) জীবনের শেষ দিনগুলো তার ঘরেই কাটিয়েছেন। মৃত্যুর পর হজরত আয়শা (রা.) এর হুজরাতেই রাসূলের লাশ দাফন করা হয়েছে। মসজিদে নববীতে রাসূলের রওজা শরিফটিই হচ্ছে আয়শার ওই ঘর। এত কাছের মানুষের ব্যাপারেই ঘটেছিলো হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। যার বিবরণ হচ্ছে রাসূল (সা.) প্রত্যেক সফরে নিজের কোনো স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এর জন্য লটারিও হত।

বনু মুসতালিক যুদ্ধে হজরত আয়শা (রা.) এর নাম লটারিতে ওঠে। সফর শেষে ফিরে আসার সময় রাস্তায় কিছু সময়ের বিরতি হয়। হজরত আয়শা (রা.) প্রয়োজন সারার জন্য বাহন থেকে নেমে একটু দূরে গেলেন। ইতোমধ্যে রাসূল (সা.) কাফেলা রওয়ানার নির্দেশ দিলেন। হজরত আয়শা (রা.) পালকির মতো যে বাহনে বসে যেতেন তা কয়েকজন বহন করত। হজরত আয়শা (রা.) অনেক হালকা ছিলেন। তাই বাহকরা ওঠানোর সময় টের পাননি যে, হজরত আয়শা (রা.) ভেতরে নেই। আয়শা (রা.) ফিরে এসে দেখেন ময়দান ফাঁকা। তাই তিনি কাপড় মুড়ি দিয়ে একটা গাছের নিচে বসে যান। তাঁর ধারণা ছিলো, যখন বুঝতে পারবে আমি ভেতরে নেই তারা আবার আমাকে নেয়ার জন্য এখানেই আসবেন। 
সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল (রা.)-কে নবী করিম (সা.) পেছনে রেখে এসেছিলেন। তার দায়িত্ব ছিলো কাফেলা ভুলে কোনো কিছু রেখে এলে বা পড়ে গেলে তা নিয়ে আসা। তিনি হজরত আয়শা (রা.)-কে দেখে জোর আওয়াজে ইন্না নিল্লাহ পড়লেন। স্বীয় বাহনের ওপর ওঠিয়ে হজরত আয়শাকে নিয়ে এলেন। তাদের মাঝে কোনো কথাই হয়নি। কিন্তু মুনাফিক সম্প্রদায় হজরত আয়শার চরিত্রে অপবাদ দিল। রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে হজরত আয়শাকে কিছু বলেননি। তবে তার সঙ্গে রাসূলের আচরণ পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক ছিলো না। বিষয়টি হজরত আয়শা (রা.)-ও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। কয়েক দিন অসুস্থ থেকে হজরত আয়শা (রা.) বাপের বাড়িতে চলে যান।

অপবাদের বিষয়ে রাসূল (সা.) সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। কিন্তু সেখানেও গৃহযুদ্ধের অবস্থা তৈরি হয়। পরিবারের লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। ইতোমধ্যে হজরত আয়শা (রা.) বিষয়টি জেনে ফেলেন। তো একদিন নবী করিম (সা.) হজরত আবু বকরের বাড়িতে এসে আয়শা (রা.)-কে বলেন, হে আয়শা! তুমি যদি দোষ না করে থাক তাহলে আল্লাহ তায়ালা অচিরেই তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। আর কোনো গোনাহ তোমার দ্বারা যদি হয়েই থাকে তাহলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। তার কাছে তওবা কর। কারণ, বান্দা যখন স্বীয় ভুলের কথা স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করেন।

তখন আয়শা (রা.) স্বীয় পিতা আবু বকরকে রাসূলের (সা.) কথার জবাব দিতে বলেন। কিন্তু আবু বকর (রা.) কী জবাব দেবেন বুঝতে পারেনি। তখন হজরত আয়শা (রা.) বলেন, মানুষের কথা শুনতে শুনতে আপনাদের মনে হয়তো একটা বিষয় বসে পড়েছে। তাই আমি সত্য কথা বললে আপনাদের বিশ্বাস হবে না। যদি স্বীকার করে নেই, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো জানেন আমি নির্দোষ। তাই আমি ওই কথাই বলবো, যা ইউসূফ (আ.) এর বাপ বলেছিলেন ‘উত্তমরূপে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহই সাহায্য করবেন, তারা যা বর্ণনা করছে সে বিষয়ে।’ এর পরেই আয়াত নাজিল হয়। আয়শা (রা.) নির্দোষ প্রমাণিত হন।’ (সহিহ বুখারী-৪১৪০)।

এই ঘটনায় সমস্যা কত গুরুতর ছিলো আন্দাজ করাও মুশকিল। কিন্তু আয়শা (রা.) এর কাছে গিয়ে নবী করিম (সা.) সমাধান দিলেন কত সহজে! এটাই ইসলামের শিক্ষা যে, কঠিন সমস্যার সমাধান হবে সহজভাবে। বড় থেকে বড় ভুলের সংশোধন হবে কোমল আচরণের মাধ্যমে।